মোটরসাইকেলে এসে গ্রামবাসীকে ব্রাশফায়ার, নিহত ৫০ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মোটরসাইকেলে এসে গ্রামবাসীকে ব্রাশফায়ার, নিহত ৫০

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 21, 2026 ইং
মোটরসাইকেলে এসে গ্রামবাসীকে ব্রাশফায়ার, নিহত ৫০ ছবির ক্যাপশন:

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মোটরসাইকেলে করে আসা সশস্ত্র হামলাকারীদের ব্রাশফায়ারে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলাকারীরা বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে এবং বহু নারী ও শিশুকে অপহরণ করেছে।

হামলাটি ঘটে তুঙ্গান দুতসে গ্রামে, যা অবস্থিত জামফারা রাজ্যর বুক্কুয়ুম এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হামলা চলে বলে জানা গেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুক্কুয়ুম সাউথের আইনপ্রণেতা হামিসু এ. ফারু বলেন, “হামলাকারীরা এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় কর্মকর্তারা নিখোঁজদের তালিকা তৈরির কাজ করছেন।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, হামলার আগে সতর্কতার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। ৪১ বছর বয়সী আব্দুল্লাহি সানি বলেন, আগের দিন ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র লোকজনকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “কেউ ঘুমায়নি; আমরা সবাই যন্ত্রণায় আছি।” তার পরিবারের তিন সদস্য এই হামলায় নিহত হয়েছেন।

নাইজেরিয়ার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠী, ডাকাত ও বিদ্রোহীদের তৎপরতা বেড়েছে। প্রায়ই মোটরসাইকেলে করে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালানো, অগ্নিসংযোগ ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে।

গত সপ্তাহেই নাইজার রাজ্যর বোর্গু এলাকায় একাধিক অভিযানে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা ঘটে কঙ্কোসো গ্রামে, যেখানে অন্তত ৩৮ জনকে গুলি করে বা গলা কেটে হত্যা করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলায় নারী ও শিশুদের অপহরণ করা হয় মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে। জামফারা রাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে, তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাইজেরিয়ার সরকার অতীতে বিভিন্ন সামরিক অভিযান চালালেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার না করলে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকতে পারে।

তুঙ্গান দুতসে গ্রামের হামলাটি আবারও দেখিয়ে দিল, নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা নাজুক। নিহতদের পরিবার শোকাহত, আর অপহৃতদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নিজের নামে সম্পদ নেই, পরিবারের নামে কোটি টাকার হিসাব

নিজের নামে সম্পদ নেই, পরিবারের নামে কোটি টাকার হিসাব