ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে বৃহত্তম আবর্জনার স্তূপ ধসে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির উদ্ধার কর্তৃপক্ষ।
সোমবার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বানতারগেবাং আবর্জনার স্তূপে রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ধসের সময় আবর্জনার স্তূপের নিচে একটি ট্রাক এবং খাবারের দোকান চাপা পড়ে।
উদ্ধার সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা ব্যাকহোরসহ ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করতে ট্র্যাকিং কুকুরও মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পর আবর্জনার স্তূপের একটি অংশ ধসে পড়ে।
জাকার্তা ও আশপাশের শহরগুলো নিয়ে গঠিত অঞ্চলটি ‘জাবোদেতাবেক’ নামে পরিচিত। এই অঞ্চলে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষের বাস এবং প্রতিদিন প্রায় ১৪ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়।
বানতারগেবাং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্মুক্ত আবর্জনার স্তূপ। এর আয়তন ১১০ হেক্টরের বেশি এবং এখানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টন বর্জ্য জমা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশ সংস্থার কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় পরিবেশমন্ত্রী হানিফ ফাইসল নুরোফিক স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে উন্মুক্ত আবর্জনার স্তূপ নিষিদ্ধ করা হলেও বানতারগেবাংয়ে এখনও বর্জ্য জমা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রোববার রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, “বানতারগেবাং জাকার্তা প্রশাসনের অধীন। তাই এর দায়িত্বও তাদের নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনা প্রয়োজন।
তবে এ বিষয়ে জাকার্তা পরিবেশ সংস্থা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে এএফপি।
গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ঘোষণা দেন, দেশটির বেশিরভাগ ল্যান্ডফিল ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে। তবে ২০২৮ সালের মধ্যে সেগুলোর অনেকগুলোই ধারণক্ষমতার সীমা অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, দুই বছরের মধ্যে ৩৪টি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে পশ্চিম জাভায় আবর্জনার স্তূপ ধসে ১৪৩ জন নিহত হওয়ার একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তখন ভারী বৃষ্টি ও মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
সূত্র: এএফপি
কসমিক ডেস্ক