রেমিট্যান্সে ভর করে স্থিতিশীল রিজার্ভ, বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রেমিট্যান্সে ভর করে স্থিতিশীল রিজার্ভ, বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 10, 2026 ইং
রেমিট্যান্সে ভর করে স্থিতিশীল রিজার্ভ, বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও আলোচনায় এসেছে নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশের পর। দেশের মোট রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে Bangladesh Bank। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে হিসাব করলে এই রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কমে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত International Monetary Fund (আইএমএফ)-এর ‘বিপিএম-৬’ পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করলে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি মূলত দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে রিজার্ভের অবস্থান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি বড় নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর—বৈদেশিক লেনদেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আমদানি ব্যয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা রিজার্ভকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ছে, যা আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকাও রিজার্ভ ধরে রাখতে সহায়ক হচ্ছে।

তবে রিজার্ভ হিসাবের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। মোট রিজার্ভে এমন কিছু উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়। অন্যদিকে BPM-6 পদ্ধতিতে কেবল ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ বিবেচনায় নেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, BPM-6 পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করা হলে দেশের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। এটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রিজার্ভ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় নির্বাহে এই রিজার্ভ একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করছে।

তারা আরও জানান, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই রিজার্ভের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা বজায় রাখা দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত বহন করছে। যদিও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হিসাব করলে কিছুটা কম দেখা যায়, তবুও সামগ্রিকভাবে এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে ষড়যন্ত্র চলছে: বিএনপি প্রার্থী

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে ষড়যন্ত্র চলছে: বিএনপি প্রার্থী