ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে অর্পিতা সরকার নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ কৌশলের মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে মোহাম্মদ হামিম মণ্ডল নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক, যার মধ্যে জৈশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।
হামিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ পরদিন ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অর্পিতা সরকারকে আটক করে। পরে তাকে পশ্চিমবঙ্গে এনে আদালতে হেফাজতের আবেদন করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আইজি গৌরব শর্মার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্পিতাকে একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও তার পরিবারের সদস্যকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে ব্ল্যাকমেইল এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া অপহরণ ও জঙ্গি সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহের মতো কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, হামিম মণ্ডলের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের ফরেনসিক বিশ্লেষণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইন উগ্রবাদী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে পুরো নেটওয়ার্কের কার্যক্রম অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
কসমিক ডেস্ক