টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় সুন্দরীখাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও ব্যয় সাশ্রয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত ১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খালের নাব্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় বছরে তিন ফসল চাষের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হাবলা উত্তরপাড়া থেকে আরোহা জীবনেশ্বর হয়ে ছয়শত বিল পর্যন্ত প্রায় ৪.২ কিলোমিটার সুন্দরী বাইকখাল পুনঃখননের জন্য মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭০৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে ১.৬ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন করা হয়। কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
শুধু খননকাজেই সীমাবদ্ধ থাকেনি প্রকল্পটি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলাধারের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে খালের দুই পাড়ে ১০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং খালপাড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তারা কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় কৃষক মজিবর মিয়া বলেন, আগে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচের জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হতো এবং তিন ফসল আবাদ করা কঠিন ছিল। পুনঃখননের ফলে এখন সেচ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং কৃষকের উৎপাদনও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে কোষাগারে ফেরত দেওয়াকে তিনি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, খাল-বিল পুনঃখনন কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এমন উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে। প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাজের মান বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অব্যয়িত ১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খাল পুনঃখননের সুফল স্থানীয় কৃষকেরা দীর্ঘদিন ভোগ করবেন এবং কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।
কসমিক ডেস্ক