ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মুড়ির চেয়ে চিড়া কেন ভালো? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মুড়ির চেয়ে চিড়া কেন ভালো?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 1, 2026 ইং
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মুড়ির চেয়ে চিড়া কেন ভালো? ছবির ক্যাপশন:

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে তিন বেলার প্রধান খাবারের পাশাপাশি বিকেলের নাস্তাও হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের জনপ্রিয় দুই খাবার—মুড়ি ও চিড়ার মধ্যে কোনটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়ে পুষ্টিবিদরা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মুড়ির তুলনায় ভালো বিকল্প। এর প্রধান কারণ হলো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI)। কোনো খাবার কত দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়, তা গ্লাইসেমিক ইনডেক্স দিয়ে নির্ধারণ করা হয়। চিড়ার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত ৩০ থেকে ৬০-এর মধ্যে থাকে, যা তুলনামূলক কম। ফলে এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে, মুড়ি একটি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য হওয়ায় এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৭০ থেকে ৮০-এর মধ্যে হতে পারে। ফলে বেশি পরিমাণে মুড়ি খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পুষ্টিগুণের দিক থেকেও চিড়া এগিয়ে। এতে রয়েছে ফাইবার, আয়রন এবং ভিটামিন-বি, যা হজমে সহায়তা করে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং ওজন ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বিপরীতে, মুড়িতে ফাইবারের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকি বাড়ে।

তবে শুধু খাবার নির্বাচন নয়, কীভাবে তা খাওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন, চিড়া খাওয়ার সময় চিনি, গুড় বা অতিরিক্ত মিষ্টি ফল না মিশিয়ে টকদই, শসা, টমেটো, ধনেপাতা ও অন্যান্য সবজি দিয়ে চিড়ামাখা তৈরি করে খাওয়া ভালো। আর মুড়ি খেতে চাইলে পরিমাণ সীমিত রেখে (প্রায় আধা কাপ থেকে এক কাপ) শসা, টমেটো, পেঁয়াজ ও অন্যান্য সবজির সঙ্গে খাওয়াই উত্তম।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও থামেনি যমুনার ভাঙন

দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও থামেনি যমুনার ভাঙন