ব্যালিস্টিক হামলায় চাপে ইউক্রেন, ন্যাটোর সহায়তা বাড়ানোর আবেদন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ব্যালিস্টিক হামলায় চাপে ইউক্রেন, ন্যাটোর সহায়তা বাড়ানোর আবেদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 7, 2026 ইং
ব্যালিস্টিক হামলায় চাপে ইউক্রেন, ন্যাটোর সহায়তা বাড়ানোর আবেদন ছবির ক্যাপশন:

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে ন্যাটোর সহযোগিতা চেয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো বৈঠকে অংশ নিয়ে মিত্র দেশগুলোর কাছে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং সামরিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আবাসিক ভবন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে, যা প্রতিহত করা বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

ন্যাটো বৈঠকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেরও কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে তিনি রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলাকে সামরিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অর্থবহ শান্তি আলোচনায় বসাতে আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করার আহ্বান জানাবেন।

এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও হামলার কৌশল জোরদার করেছে ইউক্রেন। দেশটির দাবি, তারা দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানের ফলে রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহে মানুষের দীর্ঘ সারি এবং সীমিত সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের নানা ভিডিওও ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের এসব পাল্টা হামলা রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রাও কিছুটা ধীর করতে সক্ষম হয়েছে। তবে একই সময়ে রাশিয়া আকাশপথে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ইউক্রেনের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক হামলায় অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস করা সম্ভব হলেও কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়নি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত উচ্চগতিতে চলাচল করায় সেগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণেই ইউক্রেন উন্নত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

জেলেনস্কি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, বাস্তবে তার উৎপাদন অনেক কম। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুদামে সংরক্ষিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অব্যবহৃত রাখার চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় ব্যবহার করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ক্রমেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। তাই ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এখন শুধু একটি সামরিক প্রয়োজন নয়, বরং মানবিক নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি ন্যাটোর প্রযুক্তিগত সহায়তায় ভবিষ্যতে নিজস্ব উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ক্রিমিয়া এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের মতে, এসব অভিযানের উদ্দেশ্য রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করা এবং মস্কোকে একটি গ্রহণযোগ্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বাধ্য করা। তবে কিয়েভ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের পুরো ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার কোনো শর্ত তারা মেনে নেবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন মনে করছে, পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত সহায়তা অব্যাহত থাকলে রাশিয়াকে অর্থবহ শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করা সম্ভব হবে। আর সামনে শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই যুদ্ধের গতি পরিবর্তনে ন্যাটোর সমর্থনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কিয়েভ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দেশের বাজারে আবারও কমলো জেট ফুয়েলের দাম

দেশের বাজারে আবারও কমলো জেট ফুয়েলের দাম