এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তরা, সায়েন্সল্যাব মোড় এবং মিরপুর-১০ এলাকায় অবস্থান নেন তারা।
শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের ফলে এসব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসফেরত যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়।
পুলিশ শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তারা কর্মসূচি থেকে সরে আসেননি। উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ জানান, পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়েছে। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে একাধিক বিতর্ক। গত ১৩ জুলাই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই দেশের অধিকাংশ এলাকায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয় অনেক পরীক্ষার্থীকে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর একটি ফোনালাপের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়। একই সময়ে পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নে ত্রুটি নিয়েও ক্ষোভ দেখা দেয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
প্রথমে আট দফা দাবি উত্থাপন করলেও পরে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে অনড় থাকেন। তাদের দাবিগুলো হলো—উপযোগী পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ভুল প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান এবং শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও পদত্যাগ।
মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এই সিদ্ধান্তেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হননি। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নতুন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক