বগুড়ায় প্রতারণার শিকার সেই ছয় শিক্ষার্থী অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষা দিতে না পারলেও দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসি পরীক্ষার যাত্রা শুরু করেছে। শনিবার বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে, আর তাদের পরিবারেও নেমে এসেছে স্বস্তির নিঃশ্বাস।
এর আগে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের প্রতারণার শিকার হন এই শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ করতে না পারা মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পেলেও এই ছয়জন তা পাননি। ফলে পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান।
প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষার প্রথম দিন কলেজের সামনে অবস্থান নেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তখন আর বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
প্রবেশপত্র পাওয়া ছয় শিক্ষার্থী হলেন— মো. হাসর, মো. সম্রাট সরকার, মো. তৌহিদুর রহমান তামিম, মো. মইনুর ইসলাম, মো. অমিত হাসান ও মো. সাব্বির হোসেন। তাদের পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারিত হয় শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয়ে। এই ছয়জনের মধ্যে তৌহিদুর রহমান ও অমিত হাসানের শুধু ইংরেজি আবশ্যিক বিষয়টি থাকায় তারা শনিবার কেন্দ্রে যাননি। তবে বাকি চারজন বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান জানান, জেলা প্রশাসক বিষয়টি জানার পর তাদের বোর্ডে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৮টার মধ্যে তারা বোর্ডে পৌঁছান। বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে প্রবেশপত্র সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তিনি আরও বলেন, ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তারা ছয়জনের নাম নিশ্চিতভাবে পেয়েছেন এবং তাদের সবার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আসাদ জানান, বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র আসার পর তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়। শনিবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল, যাতে তারা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় বসতে পারে।
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ এবং প্রথম দিনের পরীক্ষা মিস করার হতাশা কাটিয়ে তারা আবারও পরীক্ষার পরিবেশে ফিরতে পেরেছে। পরিবারের সদস্যরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের পুরো পরীক্ষাই অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারত।
এ ঘটনায় শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ফরম পূরণ, প্রবেশপত্র বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম হলে তার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।
সব মিলিয়ে, বগুড়ার এই ছয় শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া শুধু তাদের ব্যক্তিগত স্বস্তির বিষয় নয়, বরং এটি প্রশাসনিক তৎপরতা ও সমন্বয়ের একটি ইতিবাচক উদাহরণও বটে। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা অন্তত পরীক্ষার মূল ধারা থেকে ছিটকে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
কসমিক ডেস্ক