ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের করাচিতে ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে করাচিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে দূতাবাস ভবনের আশপাশে অবস্থান নেন। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতির কারণে দূতাবাস এলাকার আশপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং এলাকায় সাময়িক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়।
বিক্ষোভের প্রভাব পড়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে। সুলতানাবাদ থেকে মাই কোলাচি পর্যন্ত উভয়মুখী সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। জিন্নাহ ব্রিজ থেকে আসা যানবাহন আই আই চুন্দ্রিগড় রোডের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
করাচি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পিআইডিসি থেকে আসা যানবাহন পার্ক কাট হয়ে বিকল্প পথে চালিত করা হচ্ছে। বিক্ষোভ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস এলাকা ঘিরে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিক্ষোভের সময় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। করাচির এই বিক্ষোভ সেই প্রতিক্রিয়ারই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
সার্বিকভাবে, মার্কিন দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের কারণে করাচির কিছু এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ও যানজটের সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।