মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের বিপুল যুদ্ধক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন কৌশল সামনে এনেছে Iran। দেশটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষতিপূরণ দাবি অব্যাহত রাখা হবে।
জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, হামলার সময় পাঁচটি আঞ্চলিক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ওই দেশগুলোর কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণ দাবি করছে তেহরান। এই দাবির মাধ্যমে ইরান সংঘাতের দায় কেবল সরাসরি আক্রমণকারী দেশগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং পরোক্ষভাবে জড়িত দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন একটি অর্থনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কর আরোপ করে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে তেহরান। এই তহবিল থেকেই যুদ্ধক্ষতির অর্থ সংগ্রহ করা হতে পারে।
Hormuz Strait বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কর আরোপের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা RIA Novosti-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র Fatemeh Mohajerani বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে ইরানের সরাসরি ও পরোক্ষ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার।
এই ক্ষতির মধ্যে অবকাঠামো ধ্বংস, জ্বালানি খাতের ক্ষতি, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং সামরিক ব্যয়ের প্রভাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে বিকল্প অর্থনৈতিক উৎস খুঁজছে সরকার।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও যুদ্ধবিরতির কিছু উদ্যোগ দেখা গেছে, তবুও স্থায়ী সমাধানের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি এখনো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে কর আরোপের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে।
একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক জলপথে একতরফাভাবে কর আরোপ আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্র চলাচলের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই প্রস্তাব কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি উপায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, এই প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কসমিক ডেস্ক