সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মদ্যপ অবস্থায় থাকার অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের নুকালি বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ওই সময় বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে তার কক্ষে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খবর পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক তাদের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে নিজের মদ্যপানের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রস্তাবমূলক মন্তব্য করতেও শোনা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তিনি একজন সাংবাদিককে জড়িয়ে ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়। কিছু সময় পর তার স্বজনরা এসে তাকে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক, যারা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, দাবি করেন যে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ব্যক্তিগত মানসিক অশান্তির কারণে তিনি মদ্যপান করেছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে বিদ্যালয়ে এ ধরনের আচরণ করা ঠিক হয়নি এবং এটি তার ভুল ছিল। তবে তিনি দাবি করেন, মদ্যপ অবস্থায় তিনি কী বলেছেন বা কী করেছেন, তা তার মনে নেই।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম শেখ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে শোকজ নোটিশ দিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক