উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জ-এর নদ-নদীর পানির স্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, যা স্থানীয়দের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় প্রকাশিত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর দৈনিক পানির স্তর বুলেটিন অনুযায়ী, জেলার সব পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেই পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.১৯ মিটার, যা নির্ধারিত বিপৎসীমা ৭.৮০ মিটারের চেয়ে ০.৬১ মিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে লাউরেরগড় স্টেশনে পানির উচ্চতা ৬.৮৪ মিটার, যা বিপৎসীমার ১.২১ মিটার নিচে অবস্থান করছে। এই এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩১ মিলিমিটার।
ছাতক স্টেশনে পানির উচ্চতা ৮.৫৬ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ০.১৪ মিটার নিচে থাকলেও এখনও নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া দিরাই, জগন্নাথপুর ও সোলেমানপুর স্টেশনেও পানির স্তর বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। বিশেষ করে সোলেমানপুর স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ০.৪৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর তথ্যমতে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও বর্তমানে জেলার কোথাও তাৎক্ষণিক বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, উজানের বৃষ্টিপাত হঠাৎ বেড়ে গেলে পানির স্তরে দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে।
স্থানীয়দের জন্য এটি স্বস্তির খবর হলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়া-কমার প্রবণতা স্বাভাবিক হলেও যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সচেতন থাকা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি কমার ধারাবাহিকতা চলমান থাকায় আপাতত বন্যার ঝুঁকি কমেছে, তবে পরিস্থিতি এখনও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক