মাদারীপুরে ওয়াইফাই ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি পরিদর্শনে বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন মাদারীপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার এবং একই এলাকার হাসান মুন্সির মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার সকালে মনিরুজ্জামান আক্তারের চাচাতো ভাই ওয়াইফাই ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলার সময় তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পরে হাসান মুন্সির গ্রুপের অন্তত ৪০টি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত আলমগীর হাওলাদারের বোন লাইজু আক্তার বলেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তারা এ ঘটনার বিচার চান।
তিনি দাবি করেন, তাদের পরিবারের কেউ প্রতিপক্ষের বসতঘরে আগুন দেয়নি। বরং প্রতিপক্ষ নিজেরাই আগুন লাগিয়ে তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হামুমন নেছা বলেন, তার ছেলে বিদেশে থাকেন এবং কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
তার অভিযোগ, রাতের বেলা এসে দুর্বৃত্তরা তাদের বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত আরেক বাসিন্দা ডালিয়া আক্তার বলেন, তাদের ঘরের সবকিছু লুটপাট করে নেওয়া হয়েছে এবং তারা এখন প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছেন।
ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং মামলায় এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ যাতে আর কোনো ক্ষতির মুখে না পড়ে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আলমগীর হাওলাদার হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় ৮৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই মামলায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মাদারীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক