জাল টাকা উদ্ধার ঘিরে ডিবি তেজগাঁও বিভাগে তীব্র দ্বন্দ্ব The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জাল টাকা উদ্ধার ঘিরে ডিবি তেজগাঁও বিভাগে তীব্র দ্বন্দ্ব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 14, 2026 ইং
জাল টাকা উদ্ধার ঘিরে ডিবি তেজগাঁও বিভাগে তীব্র দ্বন্দ্ব ছবির ক্যাপশন:

পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকায় জাল টাকা উদ্ধারের একটি অভিযানকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার তেজগাঁও বিভাগে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ, অভিযান বন্ধের নির্দেশ এবং পরবর্তী সময়ে একটি সোর্সকে আটকে রাখার অভিযোগে ডিবির ভেতরেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।

ডিবি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যালোচনায় জানা যায়, গত ৮ নভেম্বর একটি সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি তেজগাঁও বিভাগের একটি দল ওয়ারীর জুড়িয়াটুলী এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে জাল টাকা উদ্ধারে অভিযান চালায়। অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় ৬ লাখ টাকার জাল মুদ্রা ও ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার তারেক সেকান্দার। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের সময় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান অভিযানে ইতি টানার নির্দেশ দেন এবং উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের একটি অংশ জব্দ তালিকায় না দেখানোর নির্দেশনা দেন। তবে আভিযানিক দল ওই নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করে।

এই ঘটনার পরপরই অভিযানের সোর্স দিদারুল ইসলাম দিদারকে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে তুলে এনে রাজধানীর একটি হোটেলে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের জিডি করা হলে পরে গিভেন্সি হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারের পরও তাকে থানার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়।

এ ঘটনায় ডিবির অভ্যন্তরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অবৈধ নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং অভিযানের সোর্সকে ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়।

অন্যদিকে ডিসি মোহাম্মদ রাকিব খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অভিযানের নামে কিছু কর্মকর্তা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। এ সংক্রান্ত অভিযোগ তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ডিবির পক্ষ থেকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীনকে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু একটি অভিযানের বিরোধ নয়, বরং পুলিশের ভেতরের শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মির্জা আব্বাসের অভিযোগ: নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে

মির্জা আব্বাসের অভিযোগ: নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে