বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল প্রকল্পে অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী Iqbal Hasan Mahmud।
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ২০১০ সালে যে বিশেষ আইন করা হয়েছিল, সেটি ব্যাপক অনিয়মের সুযোগ তৈরি করে। ওই আইনের আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হতো।
এই প্রক্রিয়ায় গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদেশে পাচারের ঘটনাও ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত এবং অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিতর্কিত বিশেষ আইন বাতিল করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা পরে জাতীয় সংসদে পাস হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, “লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় এবং Bangladesh Bank যৌথভাবে কাজ করছে।”
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে অর্থ অনুসন্ধান ও ফেরত আনার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাত দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ হওয়ায় এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ জনগণের ওপর পড়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম যেন আর না ঘটে, সে জন্য কাঠামোগত সংস্কার এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
সব মিলিয়ে, কুইক রেন্টাল প্রকল্পকে ঘিরে অতীতের বিতর্কিত লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে, এবং সেই অর্থ দেশে ফেরত আনার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।