ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান জোরদার করতে নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের একটি বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১ বোমারু বিমানে শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা মজুত করতে দেখা গেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিতে অন্তত একটি বি-১ বোমারু বিমানকে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পেন্টাগন সম্ভবত ইরানের ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য বহু স্থাপনা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এসব স্থাপনায় হামলা চালাতে বিশেষভাবে তৈরি করা শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হয়, যেগুলো সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ নামে পরিচিত।
সিএনএনের প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে একটি বি-১ বোমারু বিমানের অস্ত্র বহনের অংশ থেকে একটি মিসাইল লঞ্চার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই ধরনের বি-১ বোমারু বিমান আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।
এসব ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তু থেকে শত শত মাইল দূর থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব, ফলে বিমানটি শত্রুপক্ষের বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকেও হামলা চালাতে পারে।
তবে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে যে অস্ত্রগুলো মজুত করতে দেখা গেছে তার মধ্যে ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস’ বা জেডিএএম বোমাও রয়েছে।
এই ধরনের বোমা নিক্ষেপের জন্য বোমারু বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর তুলনামূলক কাছাকাছি অবস্থানে যেতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত এই ধরনের হামলার ক্ষেত্রে বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ২৫ মাইলের মধ্যে যেতে হয়।
এ কারণে ইরানের মতো শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসম্পন্ন দেশের আকাশসীমার গভীরে প্রবেশের পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর অর্থ হতে পারে যে পেন্টাগন মনে করছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ইতোমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে বা ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া সামরিক ঘাঁটির বাইরে পর্যবেক্ষকদের সামনে প্রকাশ্যে এসব যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি কৌশলগত বার্তাও দিতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেই বার্তাটি হলো—যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তিশালী সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহার করতে প্রস্তুত এবং সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা ইরানের খুব বেশি নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সামরিক প্রস্তুতি নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক