এশিয়া মহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশাল মৌসুমি মেঘমালা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, উত্তর ভারত, হিমালয় অঞ্চল, চীনের বিস্তীর্ণ অংশ হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত এই বিশাল মেঘবলয় বিস্তৃত রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অন্যতম শক্তিশালী সক্রিয় অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে Monsoon Convergence Zone (মৌসুমি বায়ুর মিলনস্থল) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভারত মহাসাগর থেকে আসা উষ্ণ ও জলীয় বাষ্পসমৃদ্ধ আর্দ্র বাতাস এশিয়ার অন্যান্য আবহাওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিত হওয়ায় এই বিশাল মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই আবহাওয়ার প্রভাবে ভারতের উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে ভারতের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বন্যা, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল, শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, ভূমিধস এবং নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হিমালয়সংলগ্ন উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাব শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আরব সাগর থেকে শুরু করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এশিয়ার বৃহৎ অংশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এই মেঘমালা একদিকে কৃষি ও জলসম্পদের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত নিশ্চিত করতে পারে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক