জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে বাংলাদেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্ভুল বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পিত নগরায়ণের কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগাম সতর্কতা থাকলে পানি জমার আগেই ড্রেনেজ পাম্প চালু করা, জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখা এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও জানান, আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, কার্যকর রাডার ব্যবস্থা, তাৎক্ষণিক বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশে নগর বন্যা, নদীবন্যা, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যা দেখা যায়, যার প্রতিটির জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণ হিসেবে তিনি বঙ্গোপসাগর থেকে আসা অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও পাহাড়ি এলাকায় ওরোগ্রাফিক বৃষ্টিপাতকে দায়ী করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাভূমি দখল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা নগর এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরে গিয়ে পানি ধারণক্ষমতা হারাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার, রিটেনশন পুকুর সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইনওয়াটার হারভেস্টিং) এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানিকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা গেলে তা শুধু জলাবদ্ধতা কমাবে না, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপও হ্রাস করবে।
সব মিলিয়ে, নির্ভুল পূর্বাভাস, সমন্বিত নগর পরিকল্পনা এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলাদেশ বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কসমিক ডেস্ক