নান্দাইল চৌরাস্তা বাজারে ১৯ লাখ টাকার জাল পুড়িয়ে ফেলা হলো The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নান্দাইল চৌরাস্তা বাজারে ১৯ লাখ টাকার জাল পুড়িয়ে ফেলা হলো

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 2, 2026 ইং
নান্দাইল চৌরাস্তা বাজারে ১৯ লাখ টাকার জাল পুড়িয়ে ফেলা হলো ছবির ক্যাপশন:

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় অবৈধ মাছ ধরার জালের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রায় ১৯ লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করে জনসমক্ষে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জাল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নান্দাইল চৌরাস্তা বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত। অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা শাহনা নাজনীন এবং সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক। তাদের সমন্বয়ে বাজারের দুটি গুদাম ও একটি দোকানে তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশির সময় গুদাম দুটি থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি দোকান থেকে মোট ২৬টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে মজুদ করে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এসব জাল মজুদ ও বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মোশাররফ হোসেন ও ইমরান নামে দুই ব্যবসায়ীকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া রতন মিয়া নামে অপর এক ব্যবসায়ীর দোকানে নিষিদ্ধ জাল রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা জালের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টাকার চায়না দুয়ারি এবং প্রায় ৪ লাখ টাকার কারেন্ট জাল রয়েছে। পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় এসব জাল জনসমক্ষে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে। এসব জাল বিশেষ করে ছোট মাছ ও পোনা ধ্বংস করে, যা ভবিষ্যৎ মৎস্য উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনে। তিনি আরও জানান, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান শুধু একদিনের নয়, পুরো মৌসুম জুড়ে অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অবৈধ জাল উৎপাদন, মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই অভিযানে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত অভিযান চালানো হলে অবৈধ জাল ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসবে এবং নদী ও জলাশয়ের মৎস্য সম্পদ রক্ষা পাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইরান থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া, বলছে দক্ষিণ কোরিয়া

ইরান থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া, বলছে দক্ষিণ কোরিয়া