সরকারি বাসা ছাড়ার সময় স্মৃতিচারণে আসিফ নজরুল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সরকারি বাসা ছাড়ার সময় স্মৃতিচারণে আসিফ নজরুল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 20, 2026 ইং
সরকারি বাসা ছাড়ার সময় স্মৃতিচারণে আসিফ নজরুল ছবির ক্যাপশন:

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিচ্ছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এই বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সপরিবারে হেয়ার রোডের এই সরকারি বাসভবন ত্যাগ করবেন।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল সরকারি বাসাটির সঙ্গে গড়ে ওঠা মানসিক সম্পর্কের কথা খোলাখুলি তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, শুরুতে যখন পরিবারসহ হেয়ার রোডের এই বাসায় ওঠেন, তখন সবার মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বড় জায়গা, বড় বাড়ি—সবকিছু মিলিয়ে সেটিকে আপন করে নেওয়া কঠিন মনে হয়েছিল। বিশাল পরিসরের এই বাসাটি প্রথমদিকে তাদের কাছে অনেকটাই অচেনা ও দূরত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, এই বাসায় ওঠার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোড এলাকার পরিচিত পরিবেশ এবং কাছের বন্ধুদের থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সন্তানদের মধ্যে তখন এক ধরনের মনখারাপ কাজ করেছিল। পরিচিত জায়গা, চেনা বন্ধু আর স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ থেকে সরে আসার অনুভূতি পরিবারটির জন্য সহজ ছিল না বলে পোস্টে ইঙ্গিত দেন তিনি।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সরকারি বাসভবনটিই ধীরে ধীরে তাদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। বাসাটির চারপাশের পরিবেশ, ঝোপঝাড়, রোদ-ছায়ার খেলা, আকাশের বিস্তৃতি—সব মিলিয়ে জায়গাটির প্রতি এক ধরনের টান তৈরি হয়। বিদায়ের মুহূর্তে এসে সেই অনুভূতিগুলোই আরও গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে বলে জানান আসিফ নজরুল।

নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, তার একটি ‘মায়া রোগ’ আছে। আর এখন এসে তিনি বুঝতে পারছেন, এই বাসাটির জন্যই তার অনেক মায়া জমে গেছে। বিশেষ করে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অনুভূতি, ঝোপঝাড়ের ভেতর দিয়ে সময় কাটানো, রোদ-ছায়ার পরিবর্তন আর আকাশে উড়ে যাওয়া চিলের ডানা—এসবই তার মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। পোস্টের শেষাংশে তিনি সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ一句তে লেখেন, ‘বিদায় হেয়ার রোড’।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে আসিফ নজরুল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টার দায়িত্বেও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলান। দায়িত্ব পালনের এই সময়েই তিনি হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে বসবাস করছিলেন।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তিনি এখন এই সরকারি আবাসস্থল ছাড়ছেন। তার এই বিদায়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার পোস্টের ভাষা ও আবেগ প্রকাশের ধরনকে ব্যক্তিগত ও মানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

একজন শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত আসিফ নজরুলের লেখালেখিতে বরাবরই অনুভূতির প্রকাশ দেখা যায়। সরকারি দায়িত্ব পালন শেষে বাসভবন ছাড়ার এই মুহূর্তেও তার লেখায় সেই চেনা ভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। রাজনৈতিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত অনুভূতিকে সামনে এনে তিনি দেখিয়েছেন, ক্ষমতা বা পদ নয়—মানুষের জীবনে জায়গা আর স্মৃতিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গভীর ছাপ ফেলে।

হেয়ার রোডের বাসভবন ছাড়ার মধ্য দিয়ে তার জীবনের একটি অধ্যায় শেষ হলেও, সেই সময়ের স্মৃতি ও অনুভূতি তার লেখার মধ্যেই থেকে যাবে—এমনটাই মনে করছেন তার অনুসারীরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক নীতি ভারতের জন্য বিপরীত ফল বয়ে এনেছে

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক নীতি ভারতের জন্য বিপরীত ফল বয়ে এনেছে