এনসিপির নারী শাখা ‘জাতীয় নারী শক্তি’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নতুন এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারীদের লক্ষ্য করে অনলাইনে বুলিংয়ের প্রবণতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীদের টার্গেট করে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে ছাত্র আন্দোলনের অনেক নারী কর্মী রাজনীতি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হলো—আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় থাকা সেই নারীরা এখন কোথায়। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে।
তিনি জানান, সারাদেশে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকা নারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে ‘জাতীয় নারী শক্তি’। তারা রাজনীতিতে থাকুক বা না থাকুক, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত বছর এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। তাদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের প্রবল আগ্রহ থাকলেও নানা সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার কারণে তারা তা প্রকাশ করতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর অনেক সময় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যায়। সাইবার জগতে নেতিবাচক প্রচারণা ও অপমানজনক আক্রমণের কারণে অনেক নারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এনসিপির একজন নারী কর্মী নির্বাচনের আগে সাইবার বুলিংয়ের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কসমিক ডেস্ক