২ বছরে ‘২২৭ কারাবন্দির’ মৃত্যু The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

২ বছরে ‘২২৭ কারাবন্দির’ মৃত্যু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 21, 2026 ইং
২ বছরে ‘২২৭ কারাবন্দির’ মৃত্যু ছবির ক্যাপশন:

গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২২৭ জন বন্দির মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, অধিকাংশ বন্দির মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগ বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে। এছাড়া মাদকাসক্ত বন্দিদের প্রত্যাহারজনিত শারীরিক জটিলতা, মানসিক চাপ এবং কারাগারে চিকিৎসকের সংকটও মৃত্যুর পেছনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, অধিকাংশ মৃত্যুই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টজনিত। তিনি জানান, অনেক মাদকাসক্ত বন্দি কারাগারে প্রবেশের পর মাদক না পাওয়ায় শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভোগেন। আবার অনেকেই কারাগারের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে বিষণ্নতা ও মানসিক চাপে আক্রান্ত হন। এসব পরিস্থিতি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসক সংকটকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত ২২৭ জন কারাবন্দি এবং ৩০ জন পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪০ জন নেতাকর্মীও রয়েছেন।

অন্যদিকে আইন ও শালিস কেন্দ্র (আসক) তাদের পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১৯০ জন কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের অভিযোগে মৃত্যুর ঘটনাও তারা নথিভুক্ত করেছে। তবে আসক তাদের প্রতিবেদনে মৃতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেনি।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট ৩৪২ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১৮৯ জন, ২০২৫ সালে ১৩৬ জন এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৭ জন বন্দি মারা গেছেন। আগের বছর ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৩২।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত করা হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় পুলিশের 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হয়। কোনো সদস্যের গাফিলতির প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা কমানোর বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়। তার মতে, এ ধরনের মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি হতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, কারাগারে উন্নত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বন্দিদের মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না