ময়মনসিংহের ফুলপুরে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের ফুলপুর ইমাদপুর কাকলি রাইস মিলের সামনে একটি সেনাবাহিনী গাড়ি এবং হালুয়াঘাটগামী একটি সাধারণ বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে এক সেনা সদস্য ও বাসচালক নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় উভয় গাড়ি রাস্তার মাঝখানে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর গাড়িগুলো রাস্তার মধ্যে পড়ে থাকায় দুইপাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। স্থানীয়রা বলেন, সকাল থেকেই সড়কের এই অংশে যানবাহন চলাচল প্রায় থমকে যায়।
ফুলপুর থানার ওসি মো. রাশেদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে মেডিকেল টিম দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটি ফুলপুরের দিকে আসছিল এবং সেনাবাহিনীর গাড়ি ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। পথচারী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গাড়ির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ফলে উভয় গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই যানজট এড়িয়ে অন্য রাস্তা ব্যবহার করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, মহাসড়কের এই অংশে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিদিনের পরিবহন ব্যাহত হয় এবং জরুরি সেবা পৌঁছানোও দেরি হয়।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ এবং গাড়ি চালকদের স্বাক্ষ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি, নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখার বিষয়টি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া, আহতদের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এই দুর্ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে মহাসড়কে নিরাপদ ড্রাইভিং এবং যানবাহনের সঠিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব। নিরাপত্তা মানা না হলে ছোটখাটো ত্রুটি থেকেই বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ফুলপুর বাসিন্দাদের আশা, দুর্ঘটনার পর দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত হবে। মহাসড়কে চলাচলকারীদের আরও সতর্ক হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।