ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের দুটি আসনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন দুই প্রার্থী। জনগণের টাকায় নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধি হতে চান বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্তী এবং বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ ও মুলাদী) আসনের প্রার্থী আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
এই দুই প্রার্থীই ব্যক্তিগত অর্থের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা মাটির ব্যাংক বিতরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
বরিশাল-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডা. মনীষা চক্রবর্তী ইতোমধ্যে একশটি মাটির ব্যাংক বিতরণ করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগে আরও মাটির ব্যাংক বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে এসব ব্যাংকে জমা হওয়া অর্থের হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডা. মনীষা বলেন, “আমরা গণমানুষের রাজনীতি করি। জনগণের টাকায় রাজনীতি করাই আমাদের দীর্ঘদিনের চর্চা। নির্বাচনও সেই ধারার বাইরে হওয়া উচিত নয়। জনগণের অর্থে নির্বাচন করলে জনপ্রতিনিধির ওপর জনগণের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “নিজের টাকায় নির্বাচন করলে অনেকেই সেই টাকা তুলে নিতে চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব বা দুর্নীতির পথে যায়। আমরা যেহেতু জনগণের স্বার্থে নির্বাচন করছি, তাই জনগণের তহবিলেই নির্বাচন হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের আহ্বান জানান। এতে ব্যাপক সাড়া পড়ে। রোববার রাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত মাত্র ২৫ ঘণ্টায় তার নির্বাচনী তহবিলে জমা হয়েছে ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার সদস্য সচিব জিএম রাব্বি বলেন, “একসময় আমাদের দেশে জনগণ নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতেন। কালোটাকার রাজনীতির কারণে সেই ধারা হারিয়ে গেছে। জনগণের টাকায় নির্বাচন করলে অবৈধ আয় ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে না।”
ভোটারদের মধ্যেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বরিশাল সদর আসনের ভোটার মনিকা চৌধুরী বলেন, “জনগণের টাকায় নির্বাচন করলে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। এতে আমরা প্রশ্ন করার সাহস পাব।” তবে তিনি তহবিলের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ কালোটাকার প্রভাবমুক্ত রাজনীতির একটি সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্ত হতে পারে। জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির সূচনা করতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।