টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশ রক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে ছাদ সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিকে দ্রুত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। এ দাবিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাঙামাটিতে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে জাবারাং কল্যাণ সমিতি, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম এবং CLEAN। এতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী এবং পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নেন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিকল্প ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন।
তাদের মতে, ছাদ সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি এমন একটি সমাধান যা পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এটি এখনও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রযুক্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং অন্যান্য স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোকে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানো সম্ভব।
সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং গ্রামীণ বাজারগুলোর বিশাল অব্যবহৃত ছাদ রয়েছে। এসব স্থানে যদি সৌর প্যানেল স্থাপন করা যায়, তবে স্থানীয় পর্যায় থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, রুফটপ সোলার শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বিকল্প মাধ্যমই নয়, বরং এটি পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো গেলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-রাঙামাটির সদস্য কবি শিশির চাকমা, কবি আনন্দ জ্যোতি চাকমা, টিআইবির জেলা সমন্বয়কারী বেনজিন চাকমা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাধারণ সম্পাদক নুকু চাকমা, সদস্য কবি মুকুল কান্তি ত্রিপুরা, প্রকৌশলী গঙ্গা বিজয় চাকমা এবং প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরা।
তারা বলেন, দেশের জ্বালানি খাতকে টেকসই করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই ছাদ সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিকে দ্রুত জাতীয় নীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
সবশেষে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রুফটপ সোলার প্রযুক্তির বিস্তার ঘটাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।