১১ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস পায়নি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

১১ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস পায়নি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 18, 2026 ইং
১১ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস পায়নি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছবির ক্যাপশন:

প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস পায়নি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি)। ফলে ভাড়া ভবনেই চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম, শ্রেণি পাঠদান, আবাসন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতে, স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষা, গবেষণা এবং ব্যবহারিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুসাফির ইমরান বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো নিজেদের একটি ক্যাম্পাস নিয়ে গর্ব করার সুযোগ তাদের নেই। ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস দেখতে চান বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। এরপর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন এবং একই বছরের মার্চে প্রথম ব্যাচের ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৫টি অনুষদের অধীনে ৪৫টি বিভাগে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যাও বাড়ছে।

তবে শিক্ষার্থী ও জনবলের এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও এখনো গড়ে ওঠেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস। বর্তমানে খুলনা সিটি করপোরেশনের অধীন দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চলছে। এছাড়া নগরীর উত্তর মুজগুন্নি এলাকায় ভাড়া নেওয়া ভবনে উপাচার্যের কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। ছাত্র ও ছাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে ভাড়া বাড়িতে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য দৌলতপুর ও ডুমুরিয়া এলাকার বিভিন্ন মৌজায় প্রায় ২৫০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রকল্পটি সবুজ তালিকাভুক্ত হয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

হর্টিকালচার বিভাগের প্রধান মীর রিফাত জাহান উষা বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন ও গবেষণার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গবেষণাগার, মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, ভাড়া ভবনে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঠভিত্তিক গবেষণা, পরীক্ষাগার, লাইব্রেরি ও আধুনিক অবকাঠামো প্রয়োজন হলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবে এসব কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন হলে নতুন অর্থবছরেই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার আশা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা ও গবেষণার পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ ফিরে পাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
উড্ডয়নের পরপরই মার্কিন সামরিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ৮

উড্ডয়নের পরপরই মার্কিন সামরিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ৮