ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সাথে সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী শাসনের অবসানের পর এবার ভোটকেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারীরা নিরাপদ ও সুন্দর ভোটকেন্দ্রের অভাবে আগে ভোট দিতে দ্বিধা প্রকাশ করতেন, কিন্তু এবারের নির্বাচনে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন।
বরিশালের বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা গেছে, ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং ব্যালট বাক্স সিলগালা, কাগজপত্র যাচাইসহ সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।
রাঙ্গামাটিতে সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা অংশ নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতা নিজের কেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে মানিকগঞ্জ-১ ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন। তিনটি আসনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বহু নারী ভোটার কেন্দ্রের মাঠে উপস্থিত ছিলেন। কবিরহাট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারকে দেখা গেছে। নড়াইলেও শীতের সকালে ভোটাররা কেন্দ্রে আগেভাগে হাজির হন। নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। এছাড়া কুমিল্লার ১১ আসনের ভোটকেন্দ্রেও নারীদের অংশগ্রহণ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের চেয়ারপারসন এবং ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আড্ডো বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আশা করছি পুরো বাংলাদেশে এভাবে ভোটগ্রহণ হবে।”
সব মিলিয়ে বলা যায়, বহু বছর পর নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারছেন নারীসহ সব শ্রেণির ভোটাররা। কোনো সংকোচ ছাড়াই ভোট দিতে পারায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন অনেকেই। এবারের ভোটের পরিবেশ প্রমাণ করছে, দেশের জনগণ এখন আরও সক্রিয়ভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে অংশ নিচ্ছেন।