মালচিং পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে বাবুগঞ্জের কৃষি, কম খরচে বাড়ছে সবজির ফলন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মালচিং পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে বাবুগঞ্জের কৃষি, কম খরচে বাড়ছে সবজির ফলন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 11, 2026 ইং
মালচিং পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে বাবুগঞ্জের কৃষি, কম খরচে বাড়ছে সবজির ফলন ছবির ক্যাপশন:

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষিচিত্র। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে কম খরচে বেশি ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে দিন দিন এ প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মধ্যে।

কৃষকদের মতে, মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এটি ভবিষ্যতের কৃষির জন্য একটি সম্ভাবনাময় পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মালচিং পদ্ধতি কী?

মালচিং হলো একটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, যেখানে জমির উপরিভাগ বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক শিট অথবা জৈব উপাদান দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এরপর নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে সেখানে চারা বা বীজ রোপণ করা হয়।

এই পদ্ধতিতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, আগাছা কম জন্মায় এবং সেচ ও সারের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম হয়। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও অনেকাংশে হ্রাস পায়। ফলে কৃষকরা কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ার সুযোগ পান।

তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প

বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের লাকুটিয়া এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলাম পড়াশোনার পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিতে সমন্বিত কৃষি প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। মাত্র ৪০ শতক জমিতে তিনি চিচিঙ্গা, বরবটি, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করছেন। পাশাপাশি টমেটোর চারা উৎপাদন করেও সফলতা অর্জন করেছেন।

রাকিবুল জানান, চলতি মৌসুমে চিচিঙ্গা ও বরবটি বিক্রি করে তিনি এক লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভের পরিমাণও বেড়েছে। আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

তার ভাষায়, মালচিং ব্যবহারে আগাছা খুব কম জন্মায়, ফলে শ্রম ও আগাছা পরিষ্কারের ব্যয় কমে যায়। এছাড়া প্লাস্টিক মালচের কারণে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে। রোদের তাপেও মাটির পানি দ্রুত শুকিয়ে যায় না, ফলে গাছ পর্যাপ্ত আর্দ্রতা পায় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। একই জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করাও সহজ হয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় তিন হেক্টর জমিতে মালচিং প্রযুক্তিতে সবজি চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে শসা, পেঁপে, করলা, পটল, চিচিঙ্গা ও বরবটির আবাদ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণেই কৃষকদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, মালচিং কৃষির একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে পানির অপচয় কমে, আগাছা দমন সহজ হয় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কমে আসে। একই সঙ্গে সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। তার আশা, ভবিষ্যতে মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়লে বাবুগঞ্জে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আয়-রোজগানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নিউজিল্যান্ড সিরিজে সিমন্সের ‘ট্রাম্প কার্ড’ নাহিদ রানা

নিউজিল্যান্ড সিরিজে সিমন্সের ‘ট্রাম্প কার্ড’ নাহিদ রানা