হঠাৎ হেঁচকি ওঠা দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা। কথা বলার মাঝখানে, অফিসে, ক্লাসে বা জনসমক্ষে হেঁচকি শুরু হলে অস্বস্তির পাশাপাশি বিব্রতও হতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম খাবারের সঙ্গে ঠাণ্ডা খাবার খাওয়া, খুব দ্রুত খাবার গ্রহণ করা কিংবা হঠাৎ উত্তেজনা বা স্নায়বিক প্রতিক্রিয়ার কারণেই সাধারণত হেঁচকি দেখা দেয়।
হেঁচকি মূলত ডায়াফ্রাম নামের একটি পেশির অনিয়ন্ত্রিত সংকোচনের ফল। ডায়াফ্রাম যখন হঠাৎ করে কেঁপে ওঠে, তখনই ‘হেঁচ’ শব্দের সঙ্গে হেঁচকি প্রকাশ পায়। বেশিরভাগ মানুষ হেঁচকি উঠলে সঙ্গে সঙ্গে পানি খাওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও পানি খাওয়া অনেক ক্ষেত্রে উপকারী, তবে এটি একমাত্র সমাধান নয়। পানি ছাড়াও বেশ কিছু ঘরোয়া ও কার্যকর উপায় রয়েছে, যেগুলো অনুসরণ করলে হেঁচকি দ্রুত থেমে যেতে পারে।
হেঁচকি বন্ধ করার প্রথম ও সহজ উপায় হলো শ্বাস ধরে রাখা। এ ক্ষেত্রে লম্বা করে একটি শ্বাস নিতে হবে এবং যতক্ষণ সম্ভব শ্বাস ভেতরে আটকে রাখার চেষ্টা করতে হবে। শ্বাস ধরে রাখার সময় নাক বন্ধ রাখা জরুরি। কিছুক্ষণ পর যখন শ্বাস ছাড়ার তীব্র চাপ অনুভূত হবে, তখন ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার এভাবে করলে ডায়াফ্রামের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে আসে এবং হেঁচকি বন্ধ হয়ে যায়।
আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি হলো হঠাৎ ভয় বা চমকের সৃষ্টি হওয়া। অনেকেই জানেন না, আকস্মিক আতঙ্ক বা চমক স্নায়ুর ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। এতে হেঁচকির স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে যায় এবং হেঁচকি থেমে যেতে পারে। যদিও এটি ইচ্ছাকৃতভাবে সব সময় করা সম্ভব নয়, তবু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এই উপায়টি কাজ করে।
দুই কানে দুই আঙুল ঢুকিয়ে শ্বাস বন্ধ রাখাও হেঁচকি কমানোর একটি পরিচিত কৌশল। এই পদ্ধতিতে স্নায়ু ও ডায়াফ্রামের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়, যা হেঁচকির সংকোচনকে থামাতে সহায়তা করে। কয়েক সেকেন্ড এভাবে থাকার পর ধীরে শ্বাস ছাড়লে ভালো ফল পাওয়া যায়।
খাবারের মাধ্যমেও হেঁচকি কমানো সম্ভব। এক চামচ মাখনের সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে খেলে অনেকের ক্ষেত্রে হেঁচকি দ্রুত কমে যায়। মাখন ও চিনির ভিন্ন স্বাদ ডায়াফ্রাম ও স্নায়ুর মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়, ফলে হেঁচকি থামতে সাহায্য করে।
দ্রুত সমাধানের জন্য অ্যান্টাসিড ট্যাবলেটও ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যান্টাসিডে থাকা ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুকে শান্ত করে এবং ডায়াফ্রামের অতিরিক্ত সংকোচন কমাতে সহায়তা করে। এর ফলে হেঁচকি অনেক সময় মুহূর্তেই থেমে যায়।
এ ছাড়া লেবুর টক স্বাদও হেঁচকি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। হেঁচকি ওঠার সময় এক টুকরো লেবু মুখে রাখলে টক স্বাদ ডায়াফ্রাম পেশিকে উদ্দীপিত করে এবং অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন বন্ধ হতে সাহায্য করে।
সবশেষে, বরফের টুকরো ব্যবহারও একটি পরিচিত উপায়। ছোট একটি বরফের টুকরো মুখে রেখে গলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর গলে যাওয়া পানি গিলে ফেললে অনেক ক্ষেত্রে হেঁচকি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এই সহজ ও ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চললে পানি খাওয়া ছাড়াই হেঁচকি সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।