২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচের রেশ এখনো কাটেনি। মাঠের বিতর্ক এবার ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। ম্যাচ পরিচালনায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের। সমালোচনার চাপের মুখে তিনি নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
গত ৭ জুলাই আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) অভিযোগ করেছে, ম্যাচে তাদের পক্ষে গোল কিংবা পেনাল্টির দাবি উঠতে পারে—এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান।
অন্যদিকে, মিশরের একটি গোল বাতিলের ক্ষেত্রে ভিএআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেও প্রশ্ন ওঠে। এসব সিদ্ধান্তের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ম্যাচ পরিচালনায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন।
ম্যাচের পর রেফারির ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সমালোচনামূলক মন্তব্যের ঢল নামে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচের আগে তার একটি পোস্টে মন্তব্যের সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই পোস্টে হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়ে, যার অধিকাংশই ছিল সমালোচনামূলক।
ক্রমবর্ধমান এই অনলাইন চাপের মুখে রেফারি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তিনি নিজে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।
এদিকে, মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে। ফেডারেশনের দাবি, ম্যাচে রেফারি ও তার সহকারী কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করা উচিত।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বড় টুর্নামেন্টে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ভিএআর প্রযুক্তি চালুর পরও যখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন তা ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনাকে আরও তীব্র করে তোলে।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ফিফা রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানতে ফিফার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকেই নজর রয়েছে ফুটবল বিশ্বে।
কসমিক ডেস্ক