রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা Shafiqur Rahman। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে তিনি ‘মোটেই সঠিক হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি বলেন, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা এবং এ ঘটনায় সবাই গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা যথাযথ পদক্ষেপ নয় বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে অবহেলা, ত্রুটি বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পুরো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া জনগণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে ‘গরিবের হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ রোগীরাই।
জামায়াত আমির তার পোস্টে হাসপাতালটির শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি নার্সিং শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলে এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থী এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যদি কারও বিরুদ্ধে অবহেলা বা দায় প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে পুরো কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া কাম্য নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপ এবং বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য নতুন করে বিষয়টিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক