বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে টানা সাত দিন ধরে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ২ জুলাই দুপুর থেকে সন্দ্বীপের সঙ্গে সব ধরনের নৌযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বীপের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।
নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম রুটে কয়েক হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। একই সঙ্গে ফেরিঘাটে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা রোগী, প্রবাসগামী যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছেন। অনেক চাকরিজীবী ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় কর্মজীবনেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে সীমিত আকারে কিছু স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল করলেও পরে সাগরের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় সেগুলোও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সব ধরনের নৌযান চলাচল স্থগিত রয়েছে।
ফেরি ‘কপোতাক্ষ’-এর চলাচল বন্ধ থাকায় বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি আটকে আছে। এসব গাড়িতে থাকা কাঁচামাল ও দ্রুত নষ্ট হওয়া পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে পরিবহন না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। একই সঙ্গে দ্বীপে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও সংকট দেখা দিয়েছে।
ফেরিঘাটে আটকে থাকা চালক ও শ্রমিকদের দুর্ভোগও দিন দিন বাড়ছে। পর্যাপ্ত রেস্টুরেন্ট, বিশ্রামাগার, ওয়াশরুম কিংবা গোসলের সুবিধা না থাকায় তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় অনেকেই মানসিক চাপের মধ্যেও রয়েছেন।
অন্যদিকে, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। নৌযোগাযোগ বন্ধ থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে যেতে পারছেন না অনেক রোগী। একই সঙ্গে বিদেশগামী যাত্রীদের মধ্যে অনেকে নির্ধারিত ফ্লাইট, ভিসার মেয়াদ ও কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। সমুদ্রে বায়ুচাপের তারতম্য এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফেরি, স্পিডবোট ও অন্যান্য নৌযান চালুর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানানো সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের অভাবে একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তারা নিরাপদ ও আধুনিক নৌপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগকালে জরুরি বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। সমুদ্র শান্ত হলে এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলেই নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রীদের ধৈর্য ধরার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে সমুদ্রপথে যাতায়াতের চেষ্টা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক