ইউরোপের চাপেই কি পিছু হটলেন ট্রাম্প? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইউরোপের চাপেই কি পিছু হটলেন ট্রাম্প?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 23, 2026 ইং
ইউরোপের চাপেই কি পিছু হটলেন ট্রাম্প? ছবির ক্যাপশন:
ad728

ডেনমার্কের মালিকানাধীন গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে আকস্মিকভাবে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহ ধরে হুঁশিয়ারি ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে জানান, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আর সামরিক পথ অনুসরণ করবে না।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও প্রশ্ন উঠেছে—কেন হঠাৎ এমন অবস্থান পরিবর্তন?

হোয়াইট হাউসের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের আগ্রাসী বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রকাশ্য হুমকি ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও এই নীতিকে ঘিরে স্পষ্ট মতভেদ তৈরি হয়।

সূত্রগুলোর মতে, একদিকে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সামাল দেওয়া, অন্যদিকে ইউরোপীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করার দ্বিমুখী চাপে পড়েন মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যই মনে করতেন, ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক শক্তি প্রয়োগ বাস্তবসম্মত নয় এবং কূটনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যও নয়।

গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন তিনি। তবে দাভোসে বক্তব্য দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের দুটি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্টকে কম উসকানিমূলক পথে এগোনোর জন্য প্রশাসনের ভেতর থেকেই চাপ তৈরি হচ্ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, শক্তি প্রদর্শনের বদলে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য অর্জনই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি লাভজনক হবে—এমন মতই ধীরে ধীরে প্রাধান্য পায়।

দাভোসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির কাঠামো’ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট যতক্ষণ না নিজে কোনো বিকল্প বাতিল করেন, ততক্ষণ প্রশাসন তা বাতিল করে না। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্ত পুরো প্রশাসন মেনে চলবে। কেলির ভাষায়, কম ব্যয়ে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের পথেই এখন যুক্তরাষ্ট্র হাঁটছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের মূল কারণ। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতারা এই অবস্থান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডের জনগণের।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ট্রাম্পের শুল্ক ও সামরিক হুমকিকে ‘ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে দেখেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রতীকীভাবে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেয়—অঞ্চলটির নিরাপত্তা তারা গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে।

সব মিলিয়ে কূটনৈতিক চাপ, মিত্রদের অসন্তোষ এবং প্রশাসনের ভেতরের বাস্তববাদী মূল্যায়নই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পকে সুর নরম করতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সুদানে নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের জানাজা অনুষ্ঠিত

সুদানে নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের জানাজা অনুষ্ঠিত