চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় দুই সাংবাদিকের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রবিবার (২৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মামলার কাজ করছে এবং তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত। এ ধরনের চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছরেও এই মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি হত্যা মামলার তদন্ত এত দীর্ঘ সময় চলতে পারে না বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ২২টি মামলার বিচার চলমান রয়েছে এবং দুটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় আছে। আশা করা হচ্ছে ঈদের পরই এসব মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।
এছাড়া আরও ৩১টি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান। গুম, খুন ও ক্রসফায়ার সংক্রান্ত ১৫০টি মামলার তদন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন একটি পৃথক মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত নিলয় জোয়ার্দারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
কসমিক ডেস্ক