ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দেরচর গাজী মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা ও রামদা ব্যবহার করে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সোহেলের ছেলে ইমরান (২৮), হাবীর ছেলে লিটন (৪৮), মান্নানের ছেলে সোহাগ (৩৫) এবং কালাইর ছেলে রিয়াজুল (২০)। এছাড়াও আরও চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গুরুতর টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় ইমরান ও রিয়াজুলকে প্রথমে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিডফোর্ড) নেওয়া হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)-এ স্থানান্তর করা হয়। অন্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের কালাইচান মাদবর গ্রুপ ও জহিরুদ্দিন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। নির্বাচনের আগমুহূর্তে সেই বিরোধ নতুন করে চরম আকার ধারণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার দুপুরে জহিরুদ্দিন গ্রুপের সদস্য সোহাগ গাজী মার্কেট এলাকায় পাইপ ফিল্টারের কাজ করতে গেলে কালাইচান গ্রুপের কয়েকজন সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে সোহাগ গুরুতর আহত হন।
এ সময় সোহাগকে উদ্ধার করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আরও কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ হন। সংঘর্ষের সময় বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, কালাইচান গ্রুপের সমুর ছেলে হাবি, জহিরুদ্দিন, সেলিম, হাবির ছেলে রিফাত সাওন, সিরাজুলের ছেলে সুজন, কালাইচানের ছেলে ইমন, নয়ন, নিজামুদ্দিনের ছেলে আমজাদ এবং ছলমুদ্দিনের ছেলে মারুফসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন।
খবর পেয়ে সিরাজদীখান থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হান্নান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নির্বাচনের ঠিক আগের দিন এমন সহিংস ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।