এনআইডির তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকা, ইসির কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ২ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এনআইডির তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকা, ইসির কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ২

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 15, 2026 ইং
এনআইডির তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকা, ইসির কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ২ ছবির ক্যাপশন:
ad728

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংবেদনশীল তথ্য জালিয়াতি ও অবৈধভাবে বিক্রির একটি বড় চক্র উন্মোচন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের এক কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্টেন্ট এবং একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তারা সারা দেশের নাগরিকদের এনআইডির তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিক্রি করতেন এবং মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করতেন।

সিআইডি জানায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে ঢাকার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন অফিস এলাকা থেকে মো. আলামিন (৩৯) নামে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জানুয়ারি রাত ১২টার পর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) নামে নির্বাচন কমিশনের একজন কম্পিউটার অপারেটরকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, মো. হাবীবুল্লাহ ২০০৮ সালে গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি ঢাকা নির্বাচন কমিশন অফিসে বদলি হন এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে পুনরায় গজারিয়া অফিসে যোগ দেন। অন্যদিকে, মো. আলামিন দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মো. আলামিনের কাছে এমন একটি গোপন লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারা দেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য দেখা ও পরিবর্তনের অনুমতি পাওয়া যেত। তিনি সেই আইডি ও পাসওয়ার্ড মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করতেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে তিনি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পেতেন।

এই অ্যাক্সেস ব্যবহার করে মো. হাবীবুল্লাহ অনলাইনে প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করতেন। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং এক মাসে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য দেখা হয়েছে। প্রতি তথ্য গড়ে ৩০০ টাকা হিসেবে এক মাসেই প্রায় ১১ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের মূল সার্ভারে প্রবেশ করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন। এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করা হতো। এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তারা ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

বৃহস্পতিবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন একীভূতকরণ প্রক্রিয়াধীন ৫ ব্যাংকের

৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন একীভূতকরণ প্রক্রিয়াধীন ৫ ব্যাংকের