মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ জন বাংলাদেশি অবশেষে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৭টা ৭ মিনিটে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা US-Bangla Airlines–এর একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার Hazrat Shahjalal International Airport–এ অবতরণ করে।
চলমান পরিস্থিতির কারণে নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ দুবাইয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে না পারায় তারা উদ্বেগ ও ভোগান্তির মুখে পড়েন। এ অবস্থায় তাদের দেশে ফেরাতে মানবিক উদ্যোগ নেয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়াতে এবং মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-আবুধাবী-ঢাকা রুটে একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
সংঘাতজনিত পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশি যাত্রীদের ওপরও। বিশেষ করে দুবাইয়ে অবস্থানরত অনেক প্রবাসী নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন। এ অবস্থায় বিশেষ ফ্লাইটের ঘোষণায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করলে যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর দেশে ফিরতে পেরে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রবাসীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে প্রভাব ফেলেছে, তা এ ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে। ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বহু যাত্রীকে বিকল্প ব্যবস্থা বা বিশেষ উদ্যোগের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা প্রবাসীদের জন্য তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে কাজ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও ১৮৯ জন বাংলাদেশির নিরাপদ প্রত্যাবর্তন স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে। বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফেরার এই উদ্যোগ প্রবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক