সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজারের বেশি শূন্য পদ, দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ সরকারের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজারের বেশি শূন্য পদ, দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ সরকারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 4, 2026 ইং
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩ হাজারের বেশি শূন্য পদ, দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ সরকারের ছবির ক্যাপশন:

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার শূন্য পদ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে তিন হাজারেরও বেশি পদ খালি থাকায় পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার মান বজায় রাখতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরে পাঠদানকারী বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭০২টি। এসব প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার মোট পদ ১৫ হাজার ২৯৩টি হলেও বর্তমানে ২ হাজার ৮৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের প্রায় ১৮ শতাংশে শিক্ষক নেই

শুধু শিক্ষক নয়, বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক পদগুলোতেও বড় ধরনের সংকট রয়েছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের ২৪৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ খালি থাকায় একদিকে যেমন পাঠদানে চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা, একাডেমিক পরিকল্পনা, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক বিষয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৭২৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। তবে এই নিয়োগ সম্পন্ন হলেও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ এখনো শূন্য থেকে যাবে। ফলে ভবিষ্যতেও আরও নিয়োগের প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে ২০১৮ সালের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৩০-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে গড়ে প্রতি ৩৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন। অনেক বিদ্যালয়ে এই অনুপাত আরও বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে পর্যাপ্ত একাডেমিক সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

জাতীয় সংসদে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি জানান, শূন্য পদের তালিকা প্রস্তুত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে তা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে নিয়োগের জন্য পাঠানো যায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শূন্য পদগুলো পূরণ হলে শিক্ষক সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক সংকট দূর করতেও উদ্যোগ চলমান রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৩টি সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদরাসা রয়েছে। সরকারি আলিয়া মাদরাসাগুলোতে ১১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদরাসায় সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৩৫৪টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৭৭৭টি পদ খালি রয়েছে। এসব পদও পর্যায়ক্রমে এনটিআরসিএর মাধ্যমে পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৩ বাংলাদেশি জেলে

আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৩ বাংলাদেশি জেলে