পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনের আশা করেছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা ছিল, এবার অন্তত ৪ থেকে ৫ লাখ পর্যটক কুয়াকাটা সৈকত ভ্রমণ করবেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে হোটেল-মোটেল সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কক্ষ ভাড়ায় বিশেষ ছাড়সহ নানা প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।
তবে ঈদের ছুটির কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত পর্যটকের দেখা মেলেনি। পর্যটন সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ পর্যটক কুয়াকাটা ভ্রমণ করেছেন, যা ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এবার আগের ঈদ মৌসুমগুলোর মতো ভিড়পূর্ণ নয়। সৈকতের জিরো পয়েন্ট, কিটকট এলাকা কিংবা গঙ্গামতির চর—কোথাও তেমন পর্যটকের চাপ নেই। ঈদের প্রথম দিনে কিছু স্থানীয় দর্শনার্থী থাকলেও পরবর্তী দিনগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল সীমিত।
অধিকাংশ দর্শনার্থীই ছিলেন পার্শ্ববর্তী এলাকার ডে-ট্যুরিস্ট, যারা সকালে এসে বিকেলে ফিরে গেছেন। ফলে আবাসিক হোটেলগুলোতে রাতযাপনকারী পর্যটকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, ঝিনুক মার্কেট ও শুঁটকি পল্লীর ব্যবসায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভ্রমণ ব্যয়ের চাপের কারণে অনেকেই এবার ঈদের ভ্রমণ পরিকল্পনা কমিয়ে দিয়েছেন বা বাতিল করেছেন। এতে পর্যটন খাতে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।
হোটেল সারোয়ার প্যারাডাইসের ম্যানেজার রিপন সাব্বির বলেন, “আগে ঈদের সময় হোটেলে রুম পাওয়া যেত না, এবার তেমন কোনো চাপ নেই।”
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে মাত্র প্রায় দুই লাখ পর্যটক এসেছে, যা প্রত্যাশার অর্ধেক। সৈকতের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন না হলে এই সংকট আরও বাড়তে পারে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মোতালেব শরীফ বলেন, পর্যটকদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হলেও আশানুরূপ ভিড় হয়নি। সৈকতের ভাঙন এবং অতিরিক্ত গরমও পর্যটক কম আসার একটি কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন জানিয়েছে, ঈদের তৃতীয় দিন থেকে কিছুটা পর্যটক সমাগম বাড়লেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ের নিচে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুয়াকাটার উন্নয়ন ও অবকাঠামো সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং সৈকত উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঈদের এই পর্যটন মৌসুমে কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে তা পূরণ না হওয়ায় পুরো পর্যটন খাতে হতাশা বিরাজ করছে।
কসমিক ডেস্ক