ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 14, 2026 ইং
ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ছবির ক্যাপশন:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় একটি কলেজের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত ইউএনও কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের জন্য সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শুক্রবার দুই পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ইউএনও কার্যালয়ে নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছিল।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন ইউএনওর কার্যালয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে গিয়ে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান। তার সঙ্গে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। উপস্থিতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপি নেতা ইরফান আলী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, যুবদল নেতা মো. ফারুক ও মোখলেসুর রহমানসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।

পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে ইউএনও রায়হানুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কথোপকথনের একপর্যায়ে জামাল উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, তিনি দলের মহাসচিবের সঙ্গে কথা বলে সেখানে এসেছেন। একই সময় ইউএনওর কার্যালয়ে রাতে অফিস করার বিষয় নিয়েও দুপক্ষের মধ্যে কথোপকথন হয়। ইউএনও রায়হানুল ইসলাম জানান, তাদের অফিস ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনেই বিভিন্ন সময় কাজ করা হয়।

এদিকে জামাল উদ্দিন ইউএনওকে উদ্দেশ করে নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তোলেন। তার বক্তব্য ছিল, নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম হচ্ছে এবং সেটি বন্ধ করা প্রয়োজন। ইউএনও রায়হানুল ইসলাম জবাবে বলেন, যদি অধ্যক্ষ কোনো অবৈধ কাজ করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ বাতিল করার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

বাগবিতণ্ডা চলাকালে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে জামাল উদ্দিন তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদকে বাইরে নিয়ে যেতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তখন কয়েকজন ব্যক্তি অধ্যক্ষের কাছ থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এরপর জামাল উদ্দিন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি জাবেদ আলীর কাছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। ইউএনও তখন বলেন, নিয়োগের কাজ চলমান থাকায় সব তথ্য দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ডের কক্ষে প্রবেশ করেছেন।

এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, তখন জামাল উদ্দিন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধির কাছ থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে নেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন অধ্যক্ষের কাছ থেকেও কিছু নথিপত্র নিয়ে ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ তাদের পিছু নেন।

মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও নিয়োগ পরীক্ষার সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকজন নিয়ে এসে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য ইউএনওকে হুমকি দেন। পরে তারা নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। কাগজপত্র ফেরত পাওয়ার জন্য তিনি তাদের কাছে অনুরোধও করেছিলেন বলে জানান।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছে—এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল। সেই অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই কয়েকজন সেখানে গিয়েছিলেন এবং পরে বিষয়টি জানার পর তিনি নিজেও সেখানে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েই ইউএনওর সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়েছে।

কাগজপত্র নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জামাল উদ্দিন বলেন, পরে সেগুলো ইউএনওর কার্যালয়েই ফেলে রেখে আসা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি একটি দলবল নিয়ে এসে পরীক্ষা বন্ধ করার দাবি জানান। প্রশাসন এতে রাজি না হওয়ায় তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং একটি মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আচরণবিধি লঙ্ঘনে জয়পুরহাটের ছয় প্রার্থীকে শোকজ

আচরণবিধি লঙ্ঘনে জয়পুরহাটের ছয় প্রার্থীকে শোকজ