বাংলাদেশের পাপেটশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার-কে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন, জানাজা এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বনানী কবরস্থানে তার শ্বশুর তোফায়েল উদ্দিন আহমেদের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। দাফনের সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে। জানাজা শেষে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সহশিল্পী এবং সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে আরেক দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বনানী কবরস্থানে নিয়ে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
সোমবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুস্তাফা মনোয়ার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন নিউমোনিয়া ও ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য শিল্পী, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা তার কর্মজীবন ও অবদানের স্মৃতিচারণ করেন। দেশের পাপেটশিল্প, চিত্রকলা এবং শিশু-কিশোর সংস্কৃতি বিকাশে তার দীর্ঘদিনের অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
মুস্তাফা মনোয়ার শিল্প, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। চিত্রকলা, পাপেটশিল্প, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং শিশুদের জন্য সৃজনশীল কার্যক্রমে তার কাজ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্থায়ী অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা মনে করেন, মুস্তাফা মনোয়ারের সৃষ্টিশীল কর্মধারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার প্রয়াণে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে।
কসমিক ডেস্ক