ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানির ঘাটতি মোকাবেলায় ভারত থেকে সমুদ্রপথে পেট্রল আমদানি শুরু করেছে রাশিয়া। শিল্প খাতের একাধিক সূত্রের বরাতে বুধবার এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানির চাহিদা পূরণে ভারত থেকে ইতোমধ্যে পেট্রলবাহী ট্যাংকার পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতি মাসে বড় পরিমাণে পেট্রল আমদানির পরিকল্পনা করছে। ইউক্রেনের হামলায় একাধিক তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে রাশিয়ার ১১টি সময় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে। কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট পরিমাণে পেট্রল বিক্রি করা হচ্ছে, আবার অনেক পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে পেট্রলের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এ পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে মস্কো। ক্রেমলিন জানিয়েছে, গ্রহণযোগ্য দামে পেট্রল আমদানির জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় কিংবা ভারতের তেল মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
শিল্প খাতের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারত থেকে অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রল রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। আরেকটি সূত্রের দাবি, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন পেট্রল বহনকারী দুটি ট্যাংকারও রাশিয়ার পথে রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিমাসে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪ লাখ টন পেট্রল আমদানির পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া, যার মধ্যে প্রতিবেশী বেলারুশও রয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে এবং সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্তও অনুমোদন করা হয়েছে। তবে ভারতের কোন তেল শোধনাগার থেকে রাশিয়ায় এই পেট্রল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কসমিক ডেস্ক