নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 2, 2026 ইং
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছবির ক্যাপশন:

ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সোমবার ঘোষণা করেছে যে তারা ইসরাইলের তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ড কেন্দ্রের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলা, যা আইআরজিসি কর্তৃক পরিচালিত ১০ম দফার আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত, প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান এবং নিরাপত্তা নিয়ে এক অজ্ঞাত ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলায় ‘খায়বার’ নামে অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিমান বাহিনীর কমান্ডারের বাসভবন এবং হাইফার সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্র। আইআরজিসি দাবি করেছে, আঘাতগুলো সুনির্দিষ্টভাবে হানা সম্ভব হয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত শনিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। সোমবার পর্যন্ত ইরান দশ দফা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য শুধু ইসরাইলি ভূখণ্ড নয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোও অন্তর্ভুক্ত। আইআরজিসি জানিয়েছে, এই দশম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পূর্ববর্তী হামলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বিধ্বংসী এবং সুনির্দিষ্ট।

ইরানের এই সামরিক অভিযান ইসরাইলের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইসরাইলি সূত্র থেকে এখনো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চিন্তিত করেছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খায়বার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সরাসরি টার্গেট করা যুদ্ধকে নতুন, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক এই হামলার পর ক্রমশ সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, পূর্ব জেরুজালেমে হামলার প্রভাব ও হাইফার সামরিক কেন্দ্রকে আঘাত প্রদানের বিষয়টি ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এই হামলার প্রেক্ষিতে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান আক্রমণ মোকাবিলার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মহল ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দশম দফার এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পূর্ববর্তী অভিযানের তুলনায় অনেক বেশি বিধ্বংসী এবং তা কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সংক্ষেপে, ইরানের আইআরজিসি কর্তৃক চালানো দশম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। এই হামলার ফলে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান অনিশ্চিত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সংকটাপন্ন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
২০২৫-২৬ মৌসুমে খেজুর উৎপাদনে বড় সাফল্যের আশা তিউনিসিয়ার

২০২৫-২৬ মৌসুমে খেজুর উৎপাদনে বড় সাফল্যের আশা তিউনিসিয়ার