কার্গো ভিলেজের আগুনে বিপুল ক্ষতি, প্রকৃত হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কার্গো ভিলেজের আগুনে বিপুল ক্ষতি, প্রকৃত হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 5, 2026 ইং
কার্গো ভিলেজের আগুনে বিপুল ক্ষতি, প্রকৃত হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা ছবির ক্যাপশন:
ad728

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৮১০ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে ধ্বংস হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, হিমায়িত খাদ্য, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, মোবাইল ফোন, শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক শিল্পের অ্যাকসেসরিজ, খাদ্যপণ্য ও গাড়ির যন্ত্রাংশ।

ঢাকা কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, আগুনে শতভাগ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আমদানিকৃত প্রতিটি পণ্যের পৃথক শনাক্ত নম্বর, ডিজিটাল লগ ও রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং থাকার কথা থাকলেও শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সে ধরনের কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কোন চালান কোথায় রাখা ছিল, কোন বাক্সে কী ধরনের পণ্য ছিল—এসব তথ্য নির্ভুলভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, আগুন লাগার আগের তিন মাস পর্যন্ত কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে সংরক্ষিত আইজিএম (ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট) ও বিল অব এন্ট্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই সময় কার্গো ভিলেজে প্রায় ৮১০ কোটি টাকার পণ্য মজুত ছিল। তবে বহু গুরুত্বপূর্ণ চালানপত্র ও নথি আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণের সঠিক হিসাব নির্ধারণ এবং পণ্যের মালিকানা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার আড়াই মাস পার হলেও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। যদিও স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কোর কমিটি ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোও তাদের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছে।

আগুনের ঘটনার পর আইআরডির যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক জানান, প্রতিবেদনের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে এবং শিগগিরই তা জমা দেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, কাস্টমস আইন অনুযায়ী আমদানিকৃত পণ্য ২১ দিনের মধ্যে খালাস করার বিধান থাকলেও বাস্তবে অনেক পণ্য মাসের পর মাস গুদামে পড়ে থাকে। যেহেতু আমদানি পণ্যের কাস্টডিয়ান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, তাই কার্গো শেডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায়। এ ক্ষেত্রে কাস্টমসের সরাসরি দায় নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কমিটি সুপারিশ করতে পারে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না করলে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি শুল্ক বিভাগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমান, নিরাপত্তা সংস্থা ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্থায়ী সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাবও আসতে পারে।

এর আগে অগ্নিকাণ্ডের পরদিন রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) দাবি করে, আগুনে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সংগঠনটি ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের বিমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিমার আওতার বাইরে থাকা পণ্যের জন্য সরকারি বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানায়।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) তথ্যমতে, আগুনে ৪৫টি কোম্পানির ৪৪২ ধরনের ওষুধের কাঁচামাল পুড়ে গেছে, যার ভ্যাট ও শুল্ক বাদে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখতে আইজিপির ন

নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখতে আইজিপির ন