ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের মানবিক সহায়তা সংস্থা Iranian Red Crescent Society।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানের প্রায় ২৪ হাজার ৫৩১টি বেসামরিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার সংস্থাটির প্রধানের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Islamic Republic News Agency জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আবাসিক ভবনগুলোতে।
মোট ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ৭৭৫টি আবাসিক ভবন রয়েছে।
এর ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাসস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৫১১টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও স্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সংঘাতের কারণে শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৬৯টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলায় ১৯৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তাদের অন্তত ১৬টি ত্রাণ ও উদ্ধারকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় ব্যবহৃত ২১টি যানবাহন এবং ১৯টি অ্যাম্বুলেন্সও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফলে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক স্থাপনায় এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সংঘাতের মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষ করে আবাসিক ভবন, স্কুল এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর আঘাত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনা অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক মহলের অনেকে আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
কসমিক ডেস্ক