চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে পুলিশের একটি অভিযানে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। হাজীগঞ্জ বাজারস্থ বিশ্বরোড এলাকা থেকে রাত প্রায় ২টায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, একটি ট্রাক এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মো. জাহেদ প্রকাশ জাহিদ (২৭), কুমিল্লার মুরাদনগরের মো. ইসমাইল হোসেন (৩৫) এবং একই জেলার দাউদকান্দি উপজেলার মো. মহসীন মিয়া (৪০)। হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা জানান, রাতে পিকআপ ট্রাকটিকে থামার সংকেত দিলে তিনজন দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাদেরকে দ্রুত আটক করতে সক্ষম হয়।
আটকের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পিকআপ ট্রাক, একটি ধারালো রামদা, একটি চাপাতি, একটি দেশীয় তৈরি ধারালো ছুরি, একটি লোহার কাটার, তিনটি লোহার রড, একটি লোহার শাবল, তিনটি পুরাতন সুতির গামছা, পাঁচটি ধারালো ব্লেড এবং তিনটি কালো রঙের মাস্ক। এসব সরঞ্জাম মূলত ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুর জব্বার বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আদালতে তাদের হাজির করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানান, এই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ডাকাতি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার অভাব অনুভূত হচ্ছিল। পুলিশি এই অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় একটি নিরাপত্তার বার্তা পাঠানো হয়েছে। এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে যাবে এবং সাধারণ নাগরিকরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন।
অভিযানটি হাজীগঞ্জ থানার ক্রমবর্ধমান জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, আটককৃতরা পূর্বে অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলোর উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ধরণের অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়িয়ে দেয় এবং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। হামলা ও ডাকাতির আশঙ্কা কমাতে পুলিশ আরও কঠোর অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষ করে বাজার ও প্রধান সড়ক এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশি নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, আটককৃতদের মাধ্যমে অপরাধী চক্রের বড় কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তদনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এই অভিযানের ফলে হাজীগঞ্জ এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফেরানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশ্বাস পেয়েছেন যে, পুলিশ প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সুরক্ষিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, হাজীগঞ্জে ডাকাত দলের তিনজন সদস্যকে আটক ও অস্ত্র জব্দের ঘটনা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক