নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভুয়া র্যাব ও ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগে সজীব ভূঁইয়া (৩৩) ওরফে ‘সোর্স বাবু’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় র্যাব-১১ কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারের আগে, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টা ২৫ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি পেন গান, দুই রাউন্ড গুলির খোসা এবং ৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, সজীব বিভিন্ন সময়ে নিজেকে র্যাব-পুলিশের সোর্স বা ডিবি-র্যাব অফিসার পরিচয় দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেন। যদি কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করত, তাহলে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এছাড়া তিনি র্যাব ও পুলিশ সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার অভিযোগে জড়িত ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে প্রায় ১০–১২ জনের একটি দল কাজ করত। র্যাব-১১ কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরপর অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
র্যাবের অভিযান এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে সিদ্ধিরগঞ্জের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে আরও নিরাপদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে ভুয়া র্যাব বা ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর মনোভাব প্রতিফলিত হয়।
সজীব ভূঁইয়া ‘সোর্স বাবু’-এর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে র্যাব-১১ কার্যক্রমের দক্ষতা এবং স্থানীয় গোয়েন্দা নজরদারির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ইয়াবা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়। র্যাব-১১ জোরালোভাবে জানিয়েছেন, তারা ভুয়া র্যাব পরিচয়দান, চাঁদাবাজি এবং অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।
গ্রেপ্তারের পর, সজীব ভূঁইয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। র্যাব-১১ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক বলেন, “আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের দায়বদ্ধ করা হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
নারায়ণগঞ্জে এই ধরনের অভিযান জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বৃদ্ধি করছে এবং ভবিষ্যতে চাঁদাবাজি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।