মাদারীপুরে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে একই সময়ে দুটি পৃথক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও কিশোরদের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুইজন আহত হন।
প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদর মডেল থানা সংলগ্ন সার্বিক কাউন্টারের সামনে, হরিকুমারীয়া এলাকার কিশোরদের মধ্যে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে।
দুই ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আক্তার হাওলাদার ও হাসান মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ টানা তিন ঘণ্টা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এই সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে “সন্ত্রাসী ঢুকেছে” বলে মাইকিং করতে শোনা যায়। মাইকিংয়ের শব্দ ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পায়। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয় না।
সংঘর্ষে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।”
স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে রাতের দিকে এমন সংঘর্ষ ঘটলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, আধিপত্যের জন্য দ্বিপক্ষীয় সংঘর্ষ এবং অস্ত্র বিস্ফোরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসন এবং স্থানীয় কমিউনিটির সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
মাদারীপুরে রাতভর সংঘর্ষ এবং শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের এই ঘটনা সামাজিকভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
কসমিক ডেস্ক