চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় তিন বছরের নাবিলা আক্তারকে অপহরণকারী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় ব্যবহৃত একটি সিএনজি এবং তিনজন অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন রুবেল (৪৫), মো. জাহেদ (২৬) ও মুনসুর আলম (৩২)। অভিযান সোমবার দিবগাত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৭ মিনিটে নাবিলা আক্তার নিজের বাসার সামনের এলাকা থেকে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিলেন। ঠিক তখনই অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে সিএনজি যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। শিশুটির বাবা সঙ্গে সঙ্গে রাউজান থানায় নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি নং–৪৮৮) দায়ের করেন।
অপহরণকারীদের মধ্যে একজন শিশুটির বাবার মোবাইলে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি জানার পর চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান তৎপর হন এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চলাকালীন সময় সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত সাহায্য এবং স্থানে তদন্তের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরিশেষে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের হেফাজত থেকে নাবিলা আক্তারকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। এরপর গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সমবেদনা জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য, যাতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং অপহরণকারী দ্রুত গ্রেপ্তার হন। রাউজান থানার এই অভিযান শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, অপহরণকারীদের মোবাইল ও সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে ত্বরিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া অপহরণের সময় ব্যবহৃত সিএনজি উদ্ধার করা হয়, যা অপরাধীদের শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, তার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন আরও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনায় রাউজান থানার দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে নাবিলা আক্তার সুস্থ এবং তার পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। পুলিশের তৎপরতা ও স্থানীয় কমিউনিটির সহযোগিতায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ইতিবাচক বার্তা প্রদান করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক